Published : 29 Jul 2026, 08:17 PM
বিশ্বব্যাংক কর্তৃক অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বড় প্রকল্পগুলোর ফলাফল ও প্রভাব যাচাইয়ের জন্য আগস্ট মাসে ঢাকায় দুটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল আগমন করবে। এর মধ্যে একটি দল গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের মানদণ্ড নিরীক্ষা করবে এবং অন্য দলটি রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের সামগ্রিক ফলাফল মূল্যায়ন করবে। এই দুই মিশনের অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের মিশন এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেলি প্রকল্পের মূল্যায়ন মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। এই সফরে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ. মার্টিন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে পৃথক চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছেন। রোববার প্রেরিত চিঠিতে জানানো হয়, গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি ৯ থেকে ১৩ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন। এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর আর্থিক জবাবদিহি (ফিডিউশিয়ারি), নন-ফিডিউশিয়ারি এবং সুশাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা।
সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যেখানে প্রকল্পের আর্থিক পরিচালনা, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া এবং চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের চিঠিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, রেলি প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন ৯ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবে। এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাংকের নির্দেশিকা অনুসারে প্রকল্পের অর্জন, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়ন করা এবং বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও সফল চর্চাগুলো নথিভুক্ত করা। এই পর্যালোচনার জন্য বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে। রেলি প্রকল্প মূল্যায়ন মিশনে নেতৃত্ব দেবেন সামিনা ইয়াসমিন, যিনি টাস্ক টিম লিডার এবং সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট। তার সাথে বিশ্বব্যাংকের কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষকসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন।
এছাড়াও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও এই মিশনে যোগ দেবেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে পরপর দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে একটি বৃহৎ সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও প্রভাব বিশ্লেষণ করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মূল্যায়নগুলো ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করবে।।
সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পেলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন; এক বিস্তৃত কর্মজীবনের প্রতিফলন