Published : 28 Jul 2026, 06:30 PM
দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের জটিলতা থেকে উদ্ভূত সরবরাহ বিভ্রাট কাটিয়ে ওঠার জন্য তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। এই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে একটি আবেদন জানিয়েছেন এবং ফোনেও আলোচনা করেছেন। বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর তিনি জোর দেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, ফোনালাপকালে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন।
এটি কেবল বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার জন্যই নয়, বরং একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্যও আলোচনা হয়েছে। মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে তীব্র গ্যাস ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকট সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য চরম দুর্ভোগ বয়ে এনেছে বলে প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আশ্বাস দেন যে সরকার তাদের কষ্ট ও ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি উপলব্ধি করছে। সংকটের সমাধানে এক্সিলারেট এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে কারিগরি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা টার্মিনালটি দ্রুত সচল করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী, যদি মেরামত কাজ পরিকল্পনা মাফিক সম্পন্ন হয়, তবে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে এফএসআরইউ থেকে ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে এবং শেষ নাগাদ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে।
এছাড়াও, মালয়েশিয়ার কাছে কেবল কারিগরি সহায়তা নয়, এলএনজি আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা এবং বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার জাপানের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করছে।।
মিরপুরে দেয়াল ধসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর মৃত্যু, বহু আহত