Published : 28 Jul 2026, 12:29 AM
বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন এই নতুন রাষ্ট্রকে কীভাবে গড়ে তুলব, সেই গুরুদায়িত্ব আমাদের কাঁধে।' আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ কর্তৃক আয়োজিত 'জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার' শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বক্তব্যের শুরুতে জুলাই মাসের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ লাভ করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত, গ্রেপ্তার বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীরতম শ্রদ্ধা।' তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অপ্রাসঙ্গিক ফুটনোট নয়; এটি এক বিশাল ঐতিহাসিক অধ্যায়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত।' ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'যে কোনো জনবিরোধী বা গণতন্ত্রবিরোধী দাবি উঠলে জাহাঙ্গীরনগরেই সবার আগে কণ্ঠস্বর উচ্চারিত হয়েছে।' গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমেই আন্দোলনটি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং এই অঞ্চলে বহু মানুষ শহীদ ও আহত হন। নাহিদ ইসলাম শিক্ষকদের ভূমিকাও স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'কারফিউ চলাকালীন শিক্ষকদের মিছিল এবং 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়' কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে আন্দোলনের পক্ষে একতাবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছিল।' বক্তব্যের শেষে তিনি উপসংহার টানেন, 'অনেকের মনে হয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে বা তার চেতনা ম্লান হয়ে গেছে। আমি তা মানি না।
রক্তে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জুলাইয়ের এই রক্তঋণের উত্তরাধিকার বহন করবে এবং নতুন প্রজন্ম সেই সংগ্রামী চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।' এই অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ও সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। আলোচনা পর্ব শেষে লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।।