Published : 29 Jul 2026, 05:27 AM
যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আজ আমার সাজিদ এখানেই বসে থাকত; আমি আসতাম না। আজ আমি এখানে এসেছি একজন বীর শহীদের মা হিসেবে। প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি বুকে নিয়েই ঘুমাই। এই গেঞ্জিটাই আমার একমাত্র সান্ত্বনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন। 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজন করে। শহীদ সাজিদের মা লিপি বেগম এই প্রসঙ্গে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, সাজিদ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শহীদ হন।
এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁর বাবাও চলে যান। আজ আমার সাজিদ নেই, ওর বাবাও নেই। আমি আর আমার মেয়ে পৃথিবীতে বেঁচে আছি, কিন্তু এই জীবনকে বেঁচে থাকা বলা যায় না। কান্নাজড়ানো কণ্ঠে লিপি বেগম বলেন, সাজিদ ছিল আমার একমাত্র ছেলে। কোনোমতে বেঁচে আছি। আমি যেন জিন্দা লাশের মতো জীবন কাটাচ্ছি। প্রতিদিন রাতে আমার সাজিদের সেই গেঞ্জিটি বুকে নিয়েই ঘুমাই, আর সেই গেঞ্জিটাই আমার একমাত্র অবলম্বন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিপ হিপ নাহিদ ইসলাম।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-আমিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে চিঠি লিখে আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হওয়া গেন্ডারিয়ার শিশু শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের মতো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শাহীন মিয়া ও মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ।।
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে অগ্নিসংযোগ ও হামলা: সারজিস আলমসহ একাধিক ব্যক্তি আহত