Published : 23 Jul 2026, 02:15 PM
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি জানান, সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিওগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। একই সাথে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুসেবা পরিষেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত 'বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। ডা. মুহিত উল্লেখ করেন যে, চক্ষুসেবা খাতে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও খাত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে, তবে এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও অভিন্ন রিপোর্টিং ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যার জন্য একটি জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "এই ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই আমরা পাঁচ বছরের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি।
" পরিকল্পনার প্রথম ধাপে জেলা হাসপাতালগুলোর বর্তমান চক্ষুসেবা সুবিধা ও কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জনবল নিয়োগ এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, দেশের সকল বয়সের মানুষের কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। স্কুলগামী শিশুদের চোখের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের জন্য সমন্বিত অভিযান চালানো হবে। এছাড়াও, কলকারখানা, অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় চশমা পায় এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। বয়স্কদের ছানি চিকিৎসায় বৃহৎ পরিসরে ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি গ্রহণের কথা জানিয়ে ডা. মুহিত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো অন্যান্য চক্ষু সমস্যার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে এবং এআই-ভিত্তিক উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
প্রযুক্তির সাহায্যে মাঠপর্যায়ে চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইটেক আই কেয়ার শুধু শহরের ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে।' চক্ষুসেবা খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও মান উন্নত করে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।।