Published : 20 Jul 2026, 11:12 PM
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের ঠিক পাশের বাড়ির একটি আলমারি থেকে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই বাড়ির এক নারীকে গণপিটুনির শিকার করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাজলা কাশিবাটি এলাকায়। সোমবার রাত আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শিশুটির নাম ফারজানা সুলতানা (৯)। সে কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহত নারীর নাম সুমাইয়া (২৬)। তিনি ওই এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. আমিরুলের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ফারজানা বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করলে কালীগঞ্জ থানায় বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির খোঁজ শুরু করে। রাতে আটটার দিকে সুমাইয়ার বাড়ির ভেতরের আলমারির ড্রয়ার থেকে ফারজানার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়াকে ধরে পিটতে শুরু করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু ফারজানার কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ওই নারীর বাড়ি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং মব তৈরি করে অভিযুক্ত নারীকে পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে কালীগঞ্জ থানায় রাখা হবে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে লাশ দুটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর পথে: দুবাই পুলিশের দাবি- দুদকের তথ্য প্রস্তুত করছে