Published : 16 Jul 2026, 06:17 AM
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে কোনো গোপন চুক্তি করেছিলেন এবং বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন—এই দাবিগুলো তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে মার্কিন গণমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর মাধ্যমে মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংবাদপত্রের এই 'অযৌক্তিক' দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ সাজানো হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, "'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগগুলো প্রচার করছে, আমরা তা সুনির্দিষ্টভাবে ও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।" এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সাথে সহযোগিতা করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছিল। আরও দাবি করা হয়েছে যে, এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই মিথ্যা অভিযোগগুলো তৈরি করার উদ্দেশ্যই ছিল। প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে প্রাথমিক হামলা চালানোর পর দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে ব্যবহার করা হয়। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস' এই প্রতিবেদনে আরও দাবি করে যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ সফরের খরচ জুগিয়েছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ বেশ কয়েকবার বিদেশে তাঁর সাথে ইসরায়েলি এজেন্টরা গোপনে সাক্ষাৎ করেছেন। পত্রিকাটি আরও দাবি করে যে, এই গোপন প্রচেষ্টাটি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হচ্ছিল। সেই শুরুর দিনগুলোতে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আহমাদিনেজাদকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যাতে তিনি দেশটির নতুন নেতা হিসেবে বসানো যায় এবং বর্তমান সরকার পতনে সহায়তা করা যায়। গণমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন এবং তাঁর নিজস্ব সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও দাবি করা হয়েছে যে, ওই বিমান হামলার পরপরই সেখানে একটি কালো রঙের গাড়ি এসে হাজির হয়। সাবেক প্রেসিডেন্টকে দ্রুত ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় এবং ইরানের ভেতরে মোসাদের একটি গোপন সেফ হাউসে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই গোপন অভিযানের বিষয়ে অবগত মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি অভিযোগ করেছে যে, ওই কালো গাড়িটি আসলে মোসাদের এজেন্টরাই চালাচ্ছিলেন। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেন। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল জনসমক্ষে তাঁর প্রথম উপস্থিতি।।