Published : 13 Jul 2026, 10:14 AM
হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি চলাচলের পথে সম্ভাব্য বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তীব্র আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম চার শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেল। সোমবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ৩টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ১০ ডলার বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৯৫ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৬ ডলারে উন্নীত হয়। ইরান আবারও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক ও কেশম দ্বীপগুলিতে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বেশ কিছু সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে পাল্টা আঘাত হানে। এই তথ্য টেলিগ্রামের মাধ্যমে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য মুক্ত। তবে এর আগে ইরান একটি অনুমোদনহীন জাহাজের ওপর হামলার পর প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছিল।
যুদ্ধের আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় বিশ শতাংশই এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে যেত। জাহাজ পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার প্রণালীর মধ্য দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই নতুন করে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। সেই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আরও ষাট দিনের আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্ত করা।।