Published : 11 Jun 2026, 02:52 AM
দেশের অভ্যন্তরে অর্থ পাচার বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোম্পানি, ট্রাস্ট বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক বা সুবিধাভোগীর পরিচয় গোপন করে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ বা ব্যবসায়িক লেনদেন পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করতে 'বেনিফিসিয়াল ওনারশিপ রেজিস্টার' প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে, তা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ভবিষ্যতে অর্থ পাচার রোধ করতে, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের আসল মালিকের পরিচয় গোপন রেখে ঋণ বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর পথ বন্ধ করতে এই রেজিস্টারটি চালু করা হবে।" অর্থ পাচার প্রতিরোধে দেশের আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যমান আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের সংস্কার এবং একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ইতিমধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে 'রেড নোটিশ' জারি করা হয়েছে, যদিও তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি। দেশের জনগণের কর এবং ব্যাংকে জমা অর্থের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি বারো সদস্যের আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স বর্তমানে এগারোটি উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থ পাচারের ঘটনা চিহ্নিত করে এবং সেগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য এগারোটি যৌথ অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এছাড়াও, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধে ১৪২টি মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে ১৭টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায়ও এসেছে। পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর অধীনে একটি বিশেষ 'চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার বিভাগ' (স্টোলেন এসেট রিকভারি ডিভিশন) গঠিত হয়েছে। অর্থ পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
খেলাপি ঋণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি ব্যাংক তাদের অর্থ উদ্ধারের জন্য 'নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষর করে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে 'নো উইন নো ফিস' (টাকা উদ্ধার হলেই কেবল ফি প্রদান) শর্তে কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এগারোটি মামলার মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়টি ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত করা হবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই আইনি সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সম্পৃক্ততা পাচারকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।।
একনেকের অধীনে ৩ হাজার ৮৯০ কোটিরও বেশি মূল্যের ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেল অনুমোদন