Published : 09 Jun 2026, 04:02 AM
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের কোনো প্রকার চাপ বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে অবৈধভাবে আটক বা ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ১২ থেকে ১৩টি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদান করেছে। সোমবার (৮ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, "যে সকল ব্যক্তি অবৈধভাবে রয়েছে, তাদের প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। ভারত সরকারকে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।" তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই ধরনের চাপ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন যে, প্রতিটি পরিস্থিতি ভিন্ন এবং একে অপরের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। কিন্তু যদি এই ঘটনা সীমান্ত অঞ্চলে ঘটে এবং ভারত সরকার এটিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, তবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে। অবৈধভাবে আটকে পড়া বা কারাবন্দিদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেলের ব্যবহার অপরিহার্য বলে তিনি পরামর্শ দেন। শামা ওবায়েদ বলেন, "এই ধরনের চাপ বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোনোভাবেই সম্পর্ক উন্নত হতে পারে না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে এবং উভয় পক্ষই একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি (প্যারাডাইম শিফট)-এর দিকে যাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের জন্য বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলোই আমাদের অবলম্বন করা উচিত।" উল্লেখ্য, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনা রুখতে সম্প্রতি দেশের ২৬টি সীমান্ত জেলায় বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পাচ্ছে। একই সময়ে, সোমবার (৮ জুন) থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে, যা ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। এই সম্মেলনে অবৈধ চাপ, সীমান্তে হত্যা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।।
চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত: স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা