Published : 08 Jun 2026, 06:02 AM
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)-এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে সংগঠনটি আগামী ১১ জুন মালদা শহরে এক মিছিলের আয়োজন করেছে। রবিবার (৭ জুন) এপিডিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা গ্রহণের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে 'চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো ও মুছে ফেলা' (ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট) নীতি ঘোষণা করেছিল। ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তর এবং 'আটককেন্দ্র' বা হোল্ডিং সেন্টার চালু করে এই কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সেখানে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। একই সাথে বাংলাদেশে 'পুশ ব্যাক' কার্যক্রম শুরু হয়। এর ফলস্বরূপ বহু মানুষ দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আটকে পড়েন। এপিডিআর অভিযোগ করে, বিএসএফ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে, বিশেষত নারী ও শিশুদের, সীমান্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে বন্দুকের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কিন্তু বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) তাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার 'নো ম্যানস ল্যান্ডে' দিনের পর দিন এই মানুষজন অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুরা রয়েছে। খাদ্য, পানীয় জল ও আশ্রয়ের অভাবে তারা রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, যা এক গুরুতর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে দাবি এপিডিআর-এর। বিএসএফ এই স্থানান্তরে নিজেদের দায়িত্ব অস্বীকার করে দাবি করে যে, যেহেতু এই ব্যক্তিরা বাংলাদেশি, তাই তাদের প্রতি বাহিনীর কোনো দায় নেই। অন্যদিকে, বিজিবির মতে, এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশি প্রমাণ করা সম্ভব নয়; বরং তারা ভারতীয়। ফলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই অবস্থান জনিত কারণে বহু মানুষ খাদ্য ও পানীয় জল ছাড়া সীমান্ত এলাকায় অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন।
এপিডিআর আরও দাবি করেছে যে, ভারতের 'ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট' বা 'থ্রি ডি' নীতিটি সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং অসাংবিধানিক। সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর এই নীতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নো ম্যানস ল্যান্ড বা জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত সকল মানুষকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং ভারত সরকারকে 'পুশ ব্যাক' নীতি বাতিলের জন্য চাপ দিতে হবে। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করার আহ্বান জানান।।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুভূত তীব্র কম্পন, রাজধানীসহ এলাকা কাঁপল