Published : 09 Jun 2026, 06:02 PM
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। অনুমোদিত এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। এই দশটি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি নতুন উদ্যোগ, তিনটি সংশোধিত পরিকল্পনা এবং দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির অন্তর্ভুক্ত। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। যেমন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে "বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)", ভূমি মন্ত্রণালয়ের "সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ", পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের "ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ", এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের "আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন" প্রকল্পগুলো গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে "বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন" প্রকল্পটিও অনুমোদন পেয়েছে।
স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে "বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২" এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের "ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)" প্রকল্প দুটি সভায় গৃহীত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে "মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট" এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের সংশোধিত সংস্করণও অনুমোদন পায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে "বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন" প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। আলোচনা চলাকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এই তালিকায় রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প। তবে, একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা 'খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন)' প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি।
এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত 'চীনা ইকোনমিক জোন' প্রকল্পটি সময়ের স্বল্পতার কারণে এই সভায় আলোচিত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী একনেক সভায় এই প্রকল্পটি পুনরায় উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন এর অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।।
ইরানের সাথে সংঘাত এড়াতে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: একা লড়তে হতে পারে