Published : 06 Jun 2026, 02:13 PM
ডেঙ্গু নামক মারাত্মক রোগের বিস্তার রোধে সরকার দেশব্যাপী তিন মাস ধরে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এডিস মশার বংশবিস্তারকারী স্থান ধ্বংস করা এবং পরিবেশকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর রবীন্দ্রসরোবরে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সরকার আজ থেকেই মাইকিং এবং অন্যান্য মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জল জমতে না দেওয়া—এটাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মন্ত্রী আরও জানান, সচেতনতা বাড়ানোর পরেও যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তাঁর নিজস্ব জরিপে দেখা গেছে, ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টি এলাকা 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগামী রোববার থেকে এক সপ্তাহের জন্য বিশেষ 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' শুরু হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী দুই মাস আগেই ডেঙ্গুর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করেছিলেন এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্তরে সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
তাঁরা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে নিজ বাড়ির চারপাশ, ফুলের টব, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বৃষ্টির জল বা অন্য কোনো জল জমতে দেওয়া যাবে না, কারণ এই জমে থাকা স্বচ্ছ জলেই এডিস মশার জন্ম হয়। ডেঙ্গু নিবারণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার ও ব্যক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে জরুরি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিএসসিসি প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগে শামিল হন।।
জাতীয় সংসদীয় সভায় ৭ মন্ত্রকের কর্মদক্ষতা পর্যালোচনা ও আগামী ১২০ দিনের কর্মপরিকল্পনা পেশ