Published : 06 Jun 2026, 12:14 AM
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খাল দখলের তীব্র বিতর্কের জেরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতের ফলে নারী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ কমপক্ষে তেরো জন আহত হন। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খুঁটিকাটা-কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের 'সংক্রান্তির খাল' এলাকায় এই সংঘাত শুরু হয়। ঘটনাটি ঘটে যখন জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ওই সরকারি খাল থেকে মাছ ধরতে গেলে সেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর বাধা সৃষ্টি হয় এবং তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২), শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) এবং লায়লা বেগম (৬৫)। আহতদের দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের প্রায় পঞ্চাশোর্ধ্ব কর্মীরা সকালে সংক্রান্তির খালে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। এই সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৩০ থেকে পঁয়ত্রিশ জন নেতা-কর্মীর দ্বারা মাছ শিকারের পথে বাধা দেওয়া হয়, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
হাসপাতালে আহতদের নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে, বিএনপির কিছু উত্তেজিত কর্মী হাসপাতাল এলাকা থেকে শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ধাওয়া করে মারধর করে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন দাবি করেন, "চৈত্র মাস শেষ হতেই খালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। সরকার নতুন করে ইজারা না দিলেও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল সেখানে মাছ চাষ করছিলেন। এলাকার দরিদ্র মানুষজন যখন খালে মাছ ধরতে গেলে আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা তাদের ওপর আক্রমণ করে। এই হামলায় তাদের চারজন আহত হন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ সাদকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।" অন্যদিকে, ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "মেয়াদ শেষ হলেও আমি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছি। আমি আগে থেকেই অন্যদের মাছ ধরার পথে বাধা দিয়েছি। কিন্তু জামায়াত নেতা শাহিনের নেতৃত্বে রড, শাবল ও দা ব্যবহার করে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং নয়জনকে আহত করা হয়।
" সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির জানান, "স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন যে আজহারুল বিএনপির সমর্থক। তার ইজারার খাল থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মাছ ধরতে গেলে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।" হাসপাতালের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিছু ব্যক্তির রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় দু'জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে সরকারি খাল দখলের এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছে এবং হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি