Published : 05 Jun 2026, 02:12 PM
আগামী সোমবার (৮ জুন) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং সীমান্ত পুলিশ বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৭তম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্তে নজরদারি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরতে পারে বাংলাদেশ বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই বৈঠকটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের 'অবৈধ অভিবাসী' বিরোধী কঠোর অবস্থানের পটভূমিতে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নর্থ ইস্ট নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, বিএসএফ আসামের ধুবড়ি সেক্টরের নদীবেষ্টিত ও দুর্গম জঙ্গলে নজরদারির জন্য ইসরায়েলি প্রযুক্তির 'টেথারড ড্রোন' এবং রাডারযুক্ত চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভভি) ব্যবহার করছে। একই সাথে, বিএসএফ পুরো সীমান্ত জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করছে।
এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটি ড্রোন, সিসিটিভি এবং ভূমি সেন্সর থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অবৈধ অনুপ্রবেশের স্থানগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম। বৈঠকের আগে বিএসএফ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয়দের ওপর কথিত হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলো উত্থাপন করবে। এই সম্মেলনে আলোচনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, ভারতে অপরাধীদের প্রবেশ রোধ, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ ও সংস্কার এবং দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়াও, আলোচনায় বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের মতো দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোও স্থান পাবে। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কর্তৃক অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বিতাড়নের কৌশল ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪,০৯৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কোনো বেড়া নির্মাণ করা হয়নি। পূর্বে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনাটি ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ভিত্তিতে হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং দুই দেশ পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও দিল্লিতে এই আলোচনা আয়োজন করে আসছে।।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি