Published : 20 May 2026, 09:24 AM
দেশের শিশুদের জীবন বাঁচাতে হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছে। একইসঙ্গে, হামের কারণে প্রাণ হারানো শিশুদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। রুলে আদালত আরও জানতে চেয়েছে, হামের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে গত ১০ মে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিটে হামে আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গে মারা যাওয়া ৩৫২ জন শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও, দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ৪২ হাজার ৮৬৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৯৮০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে, এই সময়কালে সন্দেহজনক হামে ৩৮৯ জন এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৭৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আদালত সরকারের কাছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন এক মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলেছে।।
হামের প্রকোপ: হাইকোর্টের নির্দেশ, শিশুদের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন