Published : 20 May 2026, 02:06 AM
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কারখানার ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করলে মোট বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত মেটানো সম্ভব। ‘ম্যাপড ইন বাংলাদেশ’ (এমআইবি) নামের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার বনানীতে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ৮৭৮টি পোশাক কারখানার ওপর এই জরিপ চালানো হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে এই কারখানাগুলোর বিদ্যুতের মাত্র ৩ শতাংশ আসে সৌরশক্তি থেকে, যদিও এর সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রায় ৮০ শতাংশ কারখানাই তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির ১ শতাংশেরও কম সংগ্রহ করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।
অন্যদিকে, মাত্র ৫ শতাংশ কারখানা ১০ শতাংশের বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে। কারখানার মোট জ্বালানির ৬১.৫ শতাংশ আসে জাতীয় গ্রিড থেকে, আর ৩৬ শতাংশ উৎপাদিত হয় নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে। পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ মুস্তাফিজ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রমাগত চাপের কারণে পোশাক খাতের ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ-সহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। তবে তিনি এই খাতে অর্থায়নকে একটি বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “যদি উদ্যোক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হতে না পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন।” এইচঅ্যান্ডএম-এর মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহকারী কারখানাগুলোকে কার্বন নিঃসরণ ২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার সৌরখাত থেকে অন্তত ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে এবং এ লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে কর মওকুফ করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও, সরকার বেসরকারি খাতের সহায়তায় ঢাকার বিভিন্ন ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। “এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে শুধু ঢাকা থেকেই প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে”, যোগ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান জ্বালানি মন্ত্রী।।
হামের প্রকোপ: হাইকোর্টের নির্দেশ, শিশুদের সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন