Published : 15 May 2026, 06:58 PM
দেশের আইনজীবীদের শীর্ষ সংস্থা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল)। শুধুমাত্র একটি সদস্য পদে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (সবুজ প্যানেল) প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, নীল প্যানেলের এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আবদুল বাতেন পেয়েছেন ৭৮৮ ভোট। সম্পাদক পদে ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী, যেখানে সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। গত ২ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় এবং ১৩ ও ১৪ মে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ফলাফল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের জন্য অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহ-সম্পাদক ও সাতজন সদস্যের পদ রয়েছে।
নীল প্যানেল থেকে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান সহ-সভাপতির দুটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। এছাড়া, মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল সহ-সম্পাদকের দুটি পদে বিজয়ী হন। সদস্য পদের মধ্যে ছয়টিতে জয়লাভ করেছে নীল প্যানেলের এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান। সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সদস্যের অন্য একটি পদে নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দিয়েছেন। সমিতির নির্বাচনকে নির্দলীয় হিসেবে গণ্য করা হলেও, দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের অংশগ্রহণে প্যানেল গঠিত হয়।
অতীতে বিএনপিপন্থী (নীল) ও আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা) প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেত। তবে, ২৬ এপ্রিলের বিশেষ সাধারণ সভায় দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল ১৪টি পদে প্রার্থী দেয়, যেখানে লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দেয়। এছাড়া, কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ছিলেন।।
energy সহযোগিতা: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন