Published : 13 May 2026, 09:08 PM
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা খতিয়ে দেখা হবে, তবে এই মুহূর্তে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আজ মঙ্গলবার টিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, “আমরা সংকটকাল পার করছি। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” দেশে হামের প্রকোপে ইতোমধ্যে প্রায় চার শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে, এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে টিকা কেনার জটিলতার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই ঘটনার দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে। আইনজীবীরাও আজ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)সহ অন্যান্য দলও এ বিষয়ে কর্মসূচি পালন করছে এবং বিবৃতি দিচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “টিকা নিয়ে ভুলত্রুটি খতিয়ে দেখার আগে আমাদের মায়েদের কোল আগলে রাখতে হবে। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি।
” তিনি জানান, হামের চিকিৎসাকাজ বর্তমানে জোরেশোরে চলছে। আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড, আইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরাও পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, হামের পরে অনেকের নিউমোনিয়া হচ্ছে। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ ভরসা। আমরা পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সরবরাহ করেছি। এই মুহূর্তে আমেরিকা থেকে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর অনুদান হিসেবে পেয়েছে একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি, যা আমরা দ্রুত বিতরণ করব।” সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ প্রস্তুত, এবং চিকিৎসকরাও সতর্ক। আমরা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।” তিনি আরও জানান, চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাকের পক্ষ থেকে ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) টিকা পাওয়া গেছে।
“আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। আমরা পোলিও টিকা দেওয়া শুরু করব এবং অ্যান্টি র্যাবিস টিকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কোনো শিশু এই টিকা থেকে বাদ পড়বে না।” ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ঘাটতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কিছুটা কম আছে, তবে জুন মাসের মধ্যে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাপসুল পেয়ে যাব। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করব। এই খাতে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং ইপিআই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে। আরও পড়ুন: হামে শিশুমৃত্যু: টিকা কেনায় গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি ১ ঘণ্টা আগে।
কৃষি ও প্রকৃতির সুরক্ষায় পদ্মা-তিস্তা ব্যারেজ: সরকার নিচ্ছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ