Published : 11 May 2026, 01:08 AM
পুলিশ সদস্যদের longstanding কিছু প্রত্যাশার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। অতিরিক্ত কাজের জন্য ভাতা, অবসর গ্রহণের পর সম্মানসূচক পদোন্নতি এবং পুলিশ হাসপাতালগুলোর আধুনিকীকরণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে পুলিশ বাহিনীর যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভা’য় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করার পরেও পদোন্নতি পান না। এই বাস্তবতাকে বিবেচনা করে বিশেষ নীতিমালার অধীনে কিছু সদস্যকে অবসর গ্রহণের সময় সম্মানসূচক পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), এএসআই থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) এবং এসআই থেকে অনারারি পরিদর্শক পদে উন্নীত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য ওভারটাইম ভাতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সকল স্তরের সদস্যদের এই সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এটি পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং সেবার মান উন্নত করবে বলে সরকার আশা করে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালগুলোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত মানের হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যার সমাধানে নতুন ভবন ও কার্যালয় নির্মাণের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাসে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে অপরাধের ধরণও পরিবর্তিত হয়েছে। সাইবার অপরাধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জন অত্যাবশ্যক। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘মব কালচার’ বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে জন প্রত্যাশা ও জন আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।।
কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী