Published : 06 May 2026, 07:08 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে ব্যানার স্থাপনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও হল সংসদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে শুরু হওয়া বাগবিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা উত্তেজনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। সূত্র জানায়, সম্প্রতি শাহবাগ এলাকায় মুহসীন হল সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুলহাস ইসলামের উপর হামলার প্রতিবাদে হল সংসদ একটি ব্যানার লাগায়। ব্যানারে শাহবাগ হামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি ও হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রবিনের ছবি যুক্ত করা হয়। হল ছাত্রদলের কর্মীরা ব্যানারটি সরিয়ে ফেললে, হল সংসদ পুনরায় সেটি লাগাতে গেলে মঙ্গলবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ঘটনার পরপরই হল সংসদ জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। মুহসীন হল সংসদের ভিপি সাদিক শিকদার অভিযোগ করেন, “আমরা জুলহাসের উপর হামলার ঘটনায় সাজ্জাদের বিচারের দাবিতে গতকাল ব্যানার লাগালে তারা (ছাত্রদল) সেটি ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেয়। আজ যখন আমরা পুনরায় ব্যানার লাগাতে যাই, তখন তারা আমাদের বাধা দেয় এবং আমাদের কর্মী সালমানকে মারধর করে আহত করে।
” তিনি আরও বলেন, “তারা সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মারধর করে কান ফাটিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিচার চাই, কিন্তু তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে। এটাই তাদের চরিত্র। তারা নব্বইয়ের দশকের অস্ত্রের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চায়, কিন্তু আমরা সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।” সাদিক হল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে তারা অভিভাবক মনে করেন, কিন্তু ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি জুলহাসের খবর নেননি। মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষে মুহসীন হলের শিক্ষার্থী মো. সালমান খান আহত হন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, “আজ (মঙ্গলবার) ব্যানার লাগানোর কিছুক্ষণ পর ২০-৩০ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এসে হল গেটের ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলে। আমরা নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে ব্যানারটি উদ্ধার করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা করে।
একপর্যায়ে তারা আমাকে একটি গাছের পেছনে নিয়ে গিয়ে ডান কানে ও মাথায় আঘাত করে, এবং হাতে গুরুতর জখম করে।” এ বিষয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের সাথে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, শাহবাগ হামলার অভিযুক্ত হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “হল সংসদের লোকজন আমাকে বারবার সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে ব্যানার লাগানোর চেষ্টা করেছে। আমি কোনো সন্ত্রাসী নই। তাদের এই আচরণের কারণে আজকের এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আমি সেদিন হামলায় ছিলাম না।”।
কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী