Published : 04 May 2026, 02:06 PM
সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে। জেলার আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক কারণে দেশের অন্যান্য জেলার আগে সাতক্ষীরার আম বাজারে আসে। এর স্বাদ অতুলনীয় হওয়ায় দেশজুড়ে এই আমের চাহিদা ব্যাপক, এমনকি বিদেশেও এর খ্যাতি রয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামীকাল (৫ মে) থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন আম্রপালি আম বাজারজাত করা যাবে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ৩২০টি আম বাগান রয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার কৃষক ও ব্যবসায়ী এই শিল্পের সাথে জড়িত। এ বছর ৭০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ টন বিদেশে রপ্তানি করা হবে। পারকুকরালী এলাকার আমচাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি আশা করছেন, ফলন ভালো থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লাখ টাকার বেশি আম বিক্রি করতে পারবেন। সাতক্ষীরা শহরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা ভিড় করছেন, তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, 'ব্যবসায়ীরা এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
আগামীকাল সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও গুণাগুণ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হবে।' সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, 'পুরো মাস জুড়ে আম ব্যবসায়ীদের যে কোনো অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো আম বিক্রি করা যাবে না, অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য: পরিপক্ক, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম বাজারজাত করা। তিনি আরও বলেন, 'আগামী এক মাসে সাতক্ষীরায় প্রায় তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।'।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী