Published : 06 May 2026, 12:06 AM
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এই ধরনের চুক্তি বিচার করার সময় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের চুক্তিটি পড়ার সময় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং অন্যান্য দেশের সাথে হওয়া চুক্তিগুলো পাশাপাশি রেখে দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।” মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি এই কথা বলেন। চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, “যেকোনো চুক্তির আলোচনাই হওয়া উচিত, এবং তা মুক্তভাবে হওয়া বাঞ্ছনীয়। আপনারা বলছেন, বাংলাদেশ ১৩১টি বিষয়ে ‘শ্যাল’ (shall) বলেছে? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টিতে এমন ‘শ্যাল’ ব্যবহার করেছে। তাই বাংলাদেশের চুক্তিটি পড়ার সময় ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, এবং অন্যান্য দেশের চুক্তিগুলো সাথে নিয়ে পড়লে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা যাবে।
” এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একই দিনে বলেন, “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হয়। এখানে দুই পক্ষের সুবিধাই বিবেচনা করা হয়, যাতে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।” সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্রেন্ডান লিঞ্চের সাথে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমান সরকার এই চুক্তির শুরু করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া চুক্তি ব্যক্তিগত ইচ্ছায় বাতিল করা যায় না। এটি একটি বাস্তবতা, এবং আমরা দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এটিকে কাজে লাগাতে চাই।” চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেই।
চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়, তবে তা সংশোধনের সুযোগ চুক্তিতেই রয়েছে।” তিনি এটিকে ‘স্বয়ংক্রিয় সংশোধন ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, “চুক্তিতেই সংশোধন বা পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”।