Published : 04 May 2026, 04:07 AM
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ধারাবাহিকতার কথা বলে আসলে আওয়ামীলীগ তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করছে। তিনি বলেন, “আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দর্শন ও চর্চা ফিরিয়ে আনার, অথবা বারবার ক্ষমতায় ফিরে আসার একটি গোপন পথ সবসময় খোলা রাখা হচ্ছে। বিএনপি হয়তো সচেতনভাবে বা অসচেতনভাবে এই কাজটি করছে। এই কারণে আমরা একটি টেকসই পরিবর্তন ও নতুন পথে যাত্রা শুরু করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।” রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের শেষ অধিবেশনের বিষয় ছিল ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জুলাই সনদ, সংস্কার ও গণভোট’। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমরা দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে সংগ্রাম করছি। এই সংগ্রামে বারবার জীবন উৎসর্গ করছি এবং বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তারা এর ফলাফল দেখতে চান।
যদি তারা কোনো পরিবর্তন দেখতে না পান, তবে তারা নীরব দর্শক হয়ে থাকবেন। জনগণ সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথম অধিবেশন সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে—মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু সরকার সবকিছু অগ্রাহ্য করে নিজেদের ইচ্ছামতো সংবিধান ও সংসদ পরিচালনা করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজপথই জনগণের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়াবে।” তাই তিনি সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। নাহিদ বলেন, “আমাদের একটি উচ্চকক্ষ প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজেদের মতো করে পরিবর্তন করে নেয়। এতে একটি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।” তিনি বলেন, “সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
আমরা চাই সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ঊর্ধ্বে থাকুক এবং নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা না থাকুক। সর্বদলীয় সম্মতিতে একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হোক এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন করা হোক। এগুলোই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে। তবে আমরা ধাপে ধাপে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।” সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, “আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। শুধুমাত্র সংশোধনের মাধ্যমে এটি টেকসই হবে না। বিএনপি যদি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চায়, তবে তা টেকসই হবে না এবং যেকোনো সময় বাতিল হয়ে যেতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন।”।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী