Published : 21 Mar 2026, 09:06 AM
ঈদ মানেই তো খুশির মেলা! আর এই উৎসবে হাত রাঙিয়ে তোলার এক ঐতিহ্য হলো মেহেদি। ছোট থেকে বড় সবাই এই দিনে মনের মতো নকশা আঁকতে ভালোবাসে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই মেহেদি কীভাবে আমাদের ত্বকে এত সুন্দর রঙ ছড়ায়? কী আছে এর রহস্যের গভীরে? মেহেদি আসলে হেনা গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। এই পাতাগুলো প্রথমে ভালোভাবে বেটে পেস্ট তৈরি করা হয়, যা ত্বকে লাগানোর পর লালচে-কমলা রঙে ভরে ওঠে। বিশ্বজুড়ে এই শিল্প ‘মেহেন্দি’ নামে পরিচিত। মেহেদির রং আরও গাঢ় করতে, প্রথমে পাতাগুলো মিহি করে গুঁড়ো করা জরুরি। এরপর সামান্য তেল বা লেবুর রসের মতো অম্লীয় উপাদান মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করলে, তবেই আসল রঙ পাওয়া যায়।
একে রেড হেনা-ও বলা হয়। মেহেদির ইতিহাস কিন্তু অনেক পুরনো। ১৮৯৪ থেকে ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে প্রাচীন ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় এর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাচীন মিশরেও, ৩১০০ থেকে ৩৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে, মেহেদি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। মেহেদির রঙের মূল উপাদান হলো ‘লসোন’ নামের এক বিশেষ রঞ্জক অণু। এই লসোন যখন ত্বকের সংস্পর্শে আসে, তখন কেরাটিন নামের প্রোটিনের সঙ্গে রাসায়নিক বন্ধন তৈরি করে। এই বন্ধন ত্বকের কোষ ঝরে না যাওয়া পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
মেহেদি লাগানোর পর বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করা উচিত, কারণ লসোনকে ত্বকের গভীরে প্রবেশ করতে সময় লাগে। যত বেশি সময় ধরে মেহেদি হাতে থাকবে, রং ততই গাঢ় হবে এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হবে। প্রাচীনকালে, মেহেদি শুধু সৌন্দর্যচর্চার জন্য নয়, মৃতদেহ সাজানো এবং মমি তৈরিতেও ব্যবহৃত হতো। এমনকি, ফারাও দ্বিতীয় রামেসিসের মমিতেও মেহেদির ব্যবহার দেখা গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান, তাঁর চুলগুলো মৃত্যুর পর সাদা হয়ে গিয়েছিল, তাই মেহেদি দিয়ে কমলা রঙে রাঙানো হয়েছিল। উৎস: হাউ ইট ওয়ার্কস ও উইকিপিডিয়া।।
হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে অগ্নিসংযোগ ও হামলা: সারজিস আলমসহ একাধিক ব্যক্তি আহত