Published : 04 Mar 2026, 03:07 PM
২৮শে ফেব্রুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার কক্ষে এক প্রাণবন্ত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সমৃদ্ধির আলাপন’ শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনা সভায় পুরনো দিনের স্মৃতি আর নতুন দিনের ভাবনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। বন্ধুসভার প্রবীণ ও নবীন সদস্যরা মিলিত হয়ে একে অপরের সাথে গল্পে মেতে ওঠেন, যেখানে সংগঠনের সোনালী অতীত এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আজকের এই সভা শুধু স্মৃতিচারণার নয়, বরং নিজেদের উন্নতিরও একটি সুযোগ। আমরা আমাদের অভিজ্ঞ বন্ধুদের কাছ থেকে শিখতে চাই এবং অতীতের ভুলগুলো শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।” দীর্ঘ ১৭ বছরের পথচলায় বন্ধু জয়শ্রী মজুমদার তাঁর স্মৃতিচারণাকালে বলেন, “আমি আমার সন্তানকে বন্ধুসভায় যুক্ত করতে এসে নিজেই এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই অকৃত্রিম বন্ধন আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে।” বন্ধু রিমি বিশ্বাস তাঁর বন্ধুত্বের গল্প বলতে গিয়ে বলেন, “পারিবারিক ব্যস্ততার মাঝেও যখনই মানসিক শান্তি খুঁজেছি, বন্ধুসভা সবসময় আমার পাশে থেকেছে।
” কেবল স্মৃতিচারণাই নয়, বরং বন্ধুসভার ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সদস্যরা বিভিন্ন পরামর্শ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল নিয়মিত পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে অতীতের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গতানুগতিক নাচ-গানের পাশাপাশি নাটক ও ভিন্নধর্মী পরিবেশনা যুক্ত করা, প্রতিটি অনুষ্ঠানে সদস্যদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজগুলো আরও বিস্তৃত করা। সাংস্কৃতিক মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বন্ধু দেবমিতা নন্দী নিয়মিত অনুশীলনের কথা বলেন। অন্যদিকে, বন্ধু তুষার কবির সময়ানুবর্তিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেক সদস্যের সময়ের মূল্য দেওয়া উচিত এবং অনুষ্ঠানগুলো সময়মতো শুরু ও শেষ করার সংস্কৃতি বজায় রাখা প্রয়োজন।” নতুন বন্ধুদের কাছে বন্ধুসভা এক টুকরো ভরসার প্রতীক। চট্টগ্রাম শহরে পড়তে আসা বন্ধু ইষ্টি পাল বলেন, “আমার পরিবার কক্সবাজারে থাকে, আর আমি এখানে হোস্টেলে থাকি। সবার কাছে বন্ধুসভা দ্বিতীয় পরিবার হলেও, এই শহরে বন্ধুসভাই আমার প্রথম পরিবার।
” সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শূন্যতা পূরণের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বন্ধুসভাকে বেছে নেওয়ার কথা জানান বন্ধু অতন্দ্রিলা। সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্ধুসভা সবসময় গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায় এবং নিজেদের ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুত। বন্ধুদের সক্রিয় অংশগ্রহণই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপকে সফল করে তোলে।” এ সময় সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর আছাদ, দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সমন্বয়কারী ছিলেন জয় চক্রবর্ত্তী। দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা।
এমপি গাজী নজরুলের আসল ঘটনা খতিয়ে দেখবে জামায়াত, তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেবে