Published : 14 Feb 2026, 11:07 PM
গাইবান্ধা শহরের জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মুর্শিদ হক্কানী (৩৭) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে সেখানে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার যুবকের ভাই আওরঙ্গ হক্কানী শনিবার গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেখানে কেন্দ্রের পাঁচ কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন বাঁধন (৩৫), লাবিব (৩২), সিয়াম (৩৫), আতিক (৩৬) ও তালহা (৩৫)। তাদের ঠিকানা ও পরিচয় এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত বছর ২৮ আগস্ট মুর্শিদ হক্কানী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গাইবান্ধার গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) পরিচালিত ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে’ ভর্তি হন। প্রথমে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের তার খোঁজখবর নিতে দেওয়া হলেও, পরে নানা অজুহাতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি, বেলা ২টার দিকে আত্মীয়স্বজন মুর্শিদের সাথে দেখা করতে চাইলে কেন্দ্রের কর্মীরা গড়িমসি করেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর, বেলা ৩টার দিকে মুর্শিদকে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে জানানো হয় যে, কেন্দ্রে তার চিকিৎসা করানো হবে না। এসময় মুর্শিদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন – কাটা, ছেঁড়া ও ফোলা দেখা যায়। কেন্দ্র থেকে পাওনা পরিশোধ করে মুর্শিদকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে মুর্শিদ তার ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের একটি আধা পাকা ঘরে তাকে মুখ বেঁধে লোহার রড দিয়ে হাত, পা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হতো। এক পর্যায়ে, তার দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে গ্রিলের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়, যাতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মারধরের পর, পরিবারকে বিষয়টি না জানানোর জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ মুর্শিদ হক্কানীকে ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগকারী আওরঙ্গ হক্কানী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম আবদুস সালামের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হলে, তিনি জানান যে তিনি অসুস্থ এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরো বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। কারা এমন করেছে, আমি দেখছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।’।
কাপ্তাইয়ের জেলেদের জন্য সুখবর, কৃষি কার্ডে সহায়তা পাবেন প্রায় ২৭ হাজার পরিবার