Published : 05 Feb 2026, 02:05 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন আর কঠোর ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার পুরনো দাবিতে অনড় নেই। বরং দলটি এখন ইসলামের মূল বার্তা এবং মানবকল্যাণমুখী দিকগুলোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি ঘোষিত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেই এই পরিবর্তনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ড. সাব্বির আহমেদ বলছেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস করেছে। তিনি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “ইশতেহারটিতে দলটির ভাবমূর্তি আধুনিকীকরণ এবং বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি স্পষ্ট প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
” ড. সাব্বির আহমেদের মতে, ইশতেহারে সরাসরি বা জোরালোভাবে ‘শরিয়াহ আইন’ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ নেই। এর পরিবর্তে, ইসলামের মূল শিক্ষা – সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের মর্যাদা – এই বিষয়গুলোর ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই প্রবণতা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের রাজনৈতিক ইসলামের চর্চার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, “মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে ইসলামী দলগুলো শরিয়াভিত্তিক আইনি কাঠামোর চেয়ে ধর্মের নৈতিক ও মানবিক দিকগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দেয়। জামায়াতও সম্ভবত সেই পথ অনুসরণ করছে।
” ড. আহমেদ ব্যাখ্যা করেন, এই পরিবর্তন ‘মালয়েশিয়ান মডেল’-এর প্রতিচ্ছবি, যেখানে ইসলামী দলগুলো উপলব্ধি করেছে যে কেবল ধর্মীয় বাগাড়ম্বর দিয়ে জনগণের সমর্থন আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “তারা বুঝতে পেরেছে যে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে, শুধু কট্টরপন্থী বক্তব্য রাখলে চলবে না। যখন তারা জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়, তখনই তারা ভালো ফল পায়। জামায়াতও এখন সেই পথেই হাঁটছে।”।
চালকবিহীন পথচলা! নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী