Published : 01 Mar 2026, 05:07 AM
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে তীব্রভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। শনিবার বিভিন্ন বিবৃতি মাধ্যমে দলগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবন্ধের আহ্বান জানায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ এক বিবৃতিতে বলেন, এই হামলা একটি মিথ্যা অজুহাতে করা হয়েছে এবং এটি আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি জাতিসংঘের কাছে অবিলম্বে হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। মাওলানা ইউনুস আহমাদ আরও বলেন, ইরানের অর্ধশতাধিক শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান তিনি। একইসাথে, বাংলাদেশ সরকারকেও এই অযৌক্তিক হামলার নিন্দা জানিয়ে কূটনৈতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। খেলাফত মজলিস ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শনিবার রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাপ্তাহিক নির্বাহী বৈঠকে এই উদ্বেগ জানানো হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো হামলা শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে অবৈধ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের সন্ত্রাসী চরিত্র উন্মোচন করেছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানায়। দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের সহযোগী ইসরায়েলি জায়নবাদ কর্তৃক ইরানে চালানো সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন, মানবতা এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এই আগ্রাসন বিশ্বশান্তির জন্য একটি বড় হুমকি। বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করছে।
এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী দেশগুলোও এই অন্যায় যুদ্ধে শামিল হয়েছে এবং বিশ্বমানবতার শত্রু হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বিপজ্জনক। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম এক বিবৃতিতে বলেন, এই হামলা শুধু ইরানের জনগণের ওপর নয়, বরং বিশ্বের সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও ইহুদিবাদ বিরোধী সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর একটি নগ্ন আক্রমণ। তিনি বলেন, এই হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ঐক্য ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ২ মার্চ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।।
বন্দরের ওপর মার্কিন হামলা: তেহরানের তীব্র নিন্দা, ওমানের প্রতি সমর্থন