Published : 09 Jul 2026, 05:46 AM
চলতি অর্থবছরের বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে কিছু কর ছাড় দেওয়া হলেও, এর বেশিরভাগ সুবিধাভোগী হচ্ছে মোবাইল অপারেটর এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাধারণ গ্রাহকরা এই সুবিধার সরাসরি혜택 পাবেন না। তাদের মতে, স্মার্টফোন ও মোবাইল ডেটার ওপর উচ্চ কর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা সৃষ্টি করবে। এই প্রসঙ্গে বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত ‘টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে এই মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। এই সেমিনারে টেলিকম অ্যান্ড আইসিটি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি) বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। সেমিনারে মূল বক্তব্য রাখেন টিআইপিএপির আহ্বায়ক ও বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ওপর কর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু একই সময়ে স্মার্টফোন আমদানির ওপর কর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ফাহিম মাশরুর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ল্যাপটপ আমদানিতে মোট করের হার ছিল ৯.৫ শতাংশ, যেখানে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে তা ছিল ৬২ শতাংশ, অর্থাৎ ছয় গুণেরও বেশি। অথচ দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন কম্পিউটারের চেয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণ করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের নীতি নেওয়া হয়েছে মূলত কিছু বিদেশি মালিকানাধীন স্মার্টফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষার জন্য। পাশাপাশি, মোবাইল ডেটার ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বহাল রাখা ডিজিটাল বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, বাজেটে মোবাইল অপারেটররা নিজেদের জন্য বিভিন্ন কর ছাড় আদায় করে নিয়েছে। সিমের ওপর কর ৩০০ টাকা কমানো হয়েছে এবং অগ্রিম আয়করও হ্রাস করা হয়েছে। যদিও এই সুবিধাগুলো কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়াতে সাহায্য করেছে, কিন্তু সাধারণ গ্রাহকের কোনো লাভ হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতি ১০০ টাকার টকটাইমে একজন গ্রাহক ৪০ টাকার বেশি সরকারকে কর হিসেবে প্রদান করেন, যা এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
শেয়ারট্রিপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক বলেন, সরকার স্টার্টআপ খাতের জন্য কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই নীতিগুলোর সুবিধা যেন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ড্রিম ৭১-এর প্রধান রাশাদ কবির মনে করেন, সফটওয়্যার শিল্পের আয়কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৭ সালে শেষ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। সফটওয়্যার খাতে ব্যাংকের অর্থায়নও সীমিত, তাই এই খাতের আয়কর অব্যাহতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।।
খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষির উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে ১০ শতাংশ বরাদ্দ জরুরি: বিশেষজ্ঞ দাবি