Published : 09 Jul 2026, 02:54 AM
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ড্যাশবোর্ড দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং মন্ত্রীদের কার্যালয়েও এই ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রতিদিন এই ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান হবে। যদি আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পারি, তবে দেশের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।' আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন সমিতির সদস্যসচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ডাক: অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের পথে যাত্রা অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা বাজেটের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের কথা বলেছি, যাতে দেশের সকল নাগরিক অর্থনীতিতে সমানভাবে অংশ নিতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, এই অর্থনীতি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছিল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীরই সব সুবিধা পেত এবং তারা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাধর।' তিনি এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ আগামী অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করায় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তবে তিনি মনে করেন, যদি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি আরও বলেন, এত কর ও সুদ দিয়ে দেশে ব্যবসা সম্ভব নয়; নীতি সুদহার কমানো অপরিহার্য, অন্যথায় বেসরকারি খাতে গতি আসবে না এবং অর্থনীতিতে মন্দাভাব দেখা দেবে। আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শরমিন্দ নীলোর্মি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস, কাজী ইকবাল ও অতনু রব্বানি, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ। এছাড়াও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নূরুল আমিন, বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন, এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিনসহ বহু বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করেন।।
টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তিতে বাজেটের সুবিধা শুধু কিছু প্রতিষ্ঠানের, সাধারণ গ্রাহকের নয়