Published : 23 Jun 2026, 03:38 AM
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের আগুন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই দল এখন আরও কোণঠাসা। লোকসভার নিম্নকক্ষে আরও এক সাংসদ দলত্যাগ করেছেন। শনিবার ২০তম সদস্য হিসেবে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন দলের প্রভাবশালী নেতা এবং লোকসভার প্রাক্তন সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় লোকসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র আটটিতে। অন্যদিকে, রাজ্যের বিধানসভা স্তরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক; দলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ জনে পৌঁছেছে। ভারতের লোকসভার মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের আসন ছিল মাত্র ২৮টি। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই সংখ্যা থেকে একে একে ২০টি আসন হাতছাড়া হয়েছে।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদীয় দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে প্রথমে কাকলী ঘোষ দস্তিদার এবং পরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ায় এই বিভাজনের সূত্রপাত হয়। কাকলী ঘোষের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই নতুন ব্লক বা গোষ্ঠী তৈরি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধানী দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী তালিকায় স্বাক্ষর করেন। জানা গেছে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আগামীতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লারের কাছে সংসদে আলাদা বসার আসন দাবি করবে। বিধানসভা স্তরেও তৃণমূল বড় ধাক্কা খেয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে মাত্র ৮০টি আসন। এর বিপরীতে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। এই বড় পরাজয়ের পর মমতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিধায়কেরা নিজেদের আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা এখন ৬৪। সুদীপের স্ত্রী বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এই গোষ্ঠীতে যোগ করলে সংখ্যাটি ৬৫-এ পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও, ভারতের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা থেকেও তৃণমূলের চারজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষসহ মাত্র কয়েকজন নেতা অংশ নেন। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে শনিবার শ্রীরামপুরের বটতলায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।।
স্টারমারের পদত্যাগের দাবিতে তোলপাড়! ৪ সহযোগী এমপি ও ৭০ জন লেবার বিধায়কের বিদ্রোহ