Published : 12 May 2026, 05:06 AM
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজ দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েছেন। দলের ভেতরে পদত্যাগের দাবির ঢেউ উঠেছে, যেখানে ৪ জন সংসদীয় ব্যক্তিগত সহকারী (পিপিএস) পদত্যাগ করেছেন এবং ৭০ জন লেবার এমপি তাঁর পদত্যাগের জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে স্টারমার নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে তেমন সাড়া পাননি। পরিস্থিতি ক্রমেই তাঁর বিপক্ষে যাচ্ছে।লন্ডনে দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ ভাষণে স্টারমার দল ও ভোটারদের প্রতি তাঁর পাশে থাকার আকুল আবেদন জানান। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্বের লড়াই শুরু করলে কেবল বিশৃঙ্খলা বাড়বে।
একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া, অর্থনীতিসহ দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষ এবং দলের কর্মীরাও তাঁর কাজে সন্তুষ্ট নন।পদত্যাগ করা পিপিএসদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সহকারী মেলানি ওয়ার্ড, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহযোগী জো মরিস, পরিবেশমন্ত্রীর সহযোগী টম রুটল্যান্ড এবং ক্যাবিনেট অফিসের সহযোগী নওশাবাহ খান।এই চার পিপিএস মনে করেন, ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন। তাঁরা দলের ভেতরে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রত্যাশা করছেন, যা সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
পিপিএসরা সাধারণত মন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, হাউস অফ কমন্সে মন্ত্রীর ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করার জন্য অপেক্ষাকৃত তরুণ এমপিদের মধ্য থেকে তাঁদের নির্বাচন করা হয়। এটি একটি अवैতনিক পদ, তবে এর মাধ্যমে সরকারি কাজে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়।পিপিএস টম রুটল্যান্ড তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী কেবল লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের মধ্যেই নয়, বরং সমগ্র দেশের কাছেও নিজের কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং তা পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই।’পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ করেছেন, তবে গত সপ্তাহের (স্থানীয়) নির্বাচনের ফলাফল একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে। আরও পড়ুন: চাপ সত্ত্বেও পদত্যাগ করছেন না যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমার৮ ঘণ্টা আগে।
মার্কিন-ইরান সমঝোতা চুক্তি কি আগামীকাল হবে না? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য