Published : 26 Aug 2026, 09:16 AM
যশোরের অভয়নগরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত কোটি কোটি টাকার প্রকল্পে যে দুর্নীতির চিত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগের কারণ। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতি এবং জবাবদিহিতার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে। অস্তিত্বহীন ‘সিদ্দিপাশা ভৈরব কিন্ডারগার্টেন স্কুল’-এর নামে দুই লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ তুলে নেওয়ার বিষয়টি কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়; এটি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অভয়নগরে এমন আরও অসংখ্য অনিয়ম আমাদের হতবাক করে দেয়। যে স্কুলের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কীভাবে আর্থিক অনুমোদন দিতে পারে? প্রকাশ্যে আসার পরেও আসল প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে অন্য বেসরকারি স্কুলে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুয়ো প্রত্যয়নপত্র পাওয়ার যে মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। অভয়নগরে এই দুর্নীতি কেবল অস্তিত্বহীন স্কুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আশি হাজার টাকা ব্যয়ে পুরোনো রাস্তায় নতুন কাজ দেখানো, নির্মাণ না হওয়া ইউড্রেনের বিল তুলে নেওয়া এবং দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত অগভীর নলকূপ জনপ্রতিনিধি বা কাল্পনিক ব্যক্তির নামে বণ্টন করার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) দরপত্রবিহীন ছোটখাটো কাজের সুযোগ নিয়ে কীভাবে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছে, তা স্থানীয় স্তরেই এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অভয়নগর উপজেলার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিটি পিআইসি প্রকল্পের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধি, এলজিইডির সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী এবং অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। দরপত্র ছাড়া পরিচালিত পিআইসি প্রকল্পগুলো যেন গোপনে বা কেবল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্যদের পকেটে বন্দী না থাকে, তার জন্য প্রকাশ্যে গণশুনানি এবং স্থানীয় অধিবাসীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ যেন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা প্রয়োজন।
অভয়নগরের এই পুকুরচুরি প্রমাণ করে, তদারকির অভাব হলে সরকারি অর্থ কীভাবে অপসৃত হয়ে যায়। শুধু অভয়নগরে নয়, দেশের অন্যান্য সকল উপজেলায় এডিপি-র অধীনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে যাবতীয় অনিয়ম রুখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক। গোটা দেশের সব উপজেলার এই ধরনের দুর্নীতির চিত্র একত্র করলে তা সাগরচুরির চেয়েও কম হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে, এটাই কাম্য।।
সার সংকটে কৃষকদের আর্তনাদ: কালোবাজারে মুনাফা লুটের ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃষক-মজুর সংহতির দাবি