Published : 16 Apr 2026, 05:07 PM
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা মামলায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রমজান আলী আজ আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এস কে এম তোফায়েল হাসান তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ২০০৭ সালে রমজান আলীর বিরুদ্ধে দুদকের তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, তবে বাকি দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল। এই দুটি মামলার শুনানিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজ দুপুরে রমজান আলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন, যা আদালত প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৮-৯৯ সালে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের নিচু জমি ভরাট করার কাজ মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক ও জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম (মট্টু)-কে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ আছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই পৌরসভার মেয়র রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করেন।
১৯৯৯ সালে ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রমজান আলী ও আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করে দুদক। আরেকটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজারের দক্ষিণ পাশের ডোবা ভরাট করার কাজও আমিরুল ইসলামকে দেওয়া হয়েছিল। রমজান আলী আবারও সেই কাজের পরিধি বাড়িয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায়ও একই দিনে তাঁদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করা হয়। দুদকের জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর এই দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়, বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। দুদকের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান জানান, রমজান আলীর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর শুনানিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিলেন।
আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন, কিন্তু বিচারক তা মঞ্জুর করেননি। রমজান আলীর আইনজীবী এ টি এম শাহজাহান বলেন, “রমজান আলী পূর্বে জামিনে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে আসতে পারেননি। আজ তিনি জামিন চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেছে। আমরা পুনরায় জামিনের জন্য আবেদন করব।”।
ঋণ আত্মসাতের মামলায় এস আলম ও পি.কে. হালদারের বিরুদ্ধে এফএসআইবি কর্মকর্তার সাক্ষ্য