Published : 19 Jul 2026, 07:14 PM
৩৪ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারসহ মোট তেরো জনের বিরুদ্ধে আজ রোববার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট আসাদুল আজাদ আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এই মামলার সাক্ষ্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫ জনের মধ্যে এগারো জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই সাক্ষ্য গ্রহণ হয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের সামনে। পরবর্তীতে তাঁকে জেরা করা হয়। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফ হোসেন জানান, তেরো আসামির মধ্যে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক এবং সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
রাশেদুল হকের পক্ষে তাঁর আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ আজ সাক্ষী আসাদুল আজাদের জেরা করেন। অন্যদিকে, নাহিদা রুনাইয়ের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ বাবুল ব্যাপারী জেরা মুলতবির আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করে। একই সাথে, বাকি সাক্ষ্য এবং তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী ৯ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছে। মামলার অভিযোগ অনুসারে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামমাত্র এ এম ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার একটি মেয়াদি ঋণ অনুমোদন করে। এরপর ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরিত করা হয়। এই জালিয়াতির তদন্ত করে গত বছরের ১৬ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না, মাররিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক এবং মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সেদিন মামলার বাদী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবিল হক সাক্ষ্য দেন। এরপর ২২ জুন পাঁচজন এবং ৮ জুলাই আরও চারজন সাক্ষ্য প্রদান করেন।।