Published : 10 Aug 2026, 01:16 AM
রাজধানীর বনানীতে প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকার নকল নোট ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার কেনার একটি জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. রুবেল আহমেদ ফকিরকে (৪৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান আদালতে আবেদন করেন যে, রিমান্ডের পর রুবেলকে কারাগারে আটক রাখা হোক। শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন আসামি তার পলাতক সহযোগীর অবস্থান এবং নকল টাকার উৎস সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এড়িয়ে গেছেন। তবে মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের জন্য সহায়ক হবে। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, আসামি রুবেল একজন পেশাদার নকল নোট চক্রের সদস্য।
তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন থানায় জাল নোট তৈরি, প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কমপক্ষে ষোলোটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা আবশ্যক, কারণ জামিন পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং মামলার তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট বিকেলে বনানী সুপারমার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘মনিমালা জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকানে রুবেল ফকির এবং তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি (৩৭) ক্রেতার ছদ্মবেশে প্রবেশ করেন। তারা ভাগনির বিয়ের জন্য স্বর্ণালংকার কেনার অজুহাতে কর্মচারীদের বিভিন্ন নকশার গয়না দেখতে বলেন। এরপর তারা ২০-২১ ভরি স্বর্ণালংকার পছন্দ করে তা বিল ও প্যাকেটের জন্য নির্দেশ দেন। স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম বেশি হওয়ায় দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি মালিককে জানান। মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে রুবেল তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যের নোটের বান্ডিল বের করে কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। কর্মচারীরা নোটগুলো পরীক্ষা করে সন্দেহ হলে তা জাল নোট বলে নিশ্চিত হন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এই সময় দোকানের কর্মচারীদের চিৎকারে আশপাশের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এগিয়ে এসে রুবেলকে ধরে ফেলেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁকে মারধর করে। তবে তাঁর সহযোগী আবদুল্লাহ আল কাফি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে বনানী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লক্ষ ৫ হাজার টাকার জাল নোট এবং ট্রলি ব্যাগটি জব্দ করে। এই ঘটনায় মনিমালা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৭ আগস্ট আদালত রুবেলকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।।
মালয়েশিয়ায় থাকার ছলে ঢাকায় ব্যবসা, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিবুলের জাল ফাঁস; অবশেষে ধরা পড়ল