Published : 08 Aug 2026, 03:16 AM
রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর খাজা হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিবকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে লালবাগ এলাকা থেকে তাঁকে এই গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। শুক্রবার রাতে তিনি আরও জানান, খাজা হাবিব এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে খাজা হাবিবকে রমনা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। খাজা হাবিব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং শাহবাগ থানার বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক, কারণ এর আগে একই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বেশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। যেমন— রমনা মডেল থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (রমনা) ছাত্রদলের ‘টিম প্রধান’ ইসতিয়াক আলী রাকিব ওরফে গোল্ডেন রাকিবসহ মোট ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত বিল্লাল হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে তিনি সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। ঘটনার দিন, গত ৮ জুন রাত ৮টার দিকে সালিসের কথা বলে মৌচাকের আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বিল্লালকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন তাঁর স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিল্লাল খাবার হোটেলের ব্যবসা করতেন। তাঁর ভাগনে মোবারক হোসেন (আকাশ) আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করত। আসামি দিদারুল ইসলাম (বাবু) আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা পরিষ্কারের বিলের নামে চাঁদা আদায়ের কাজ করত।
এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে দিদারুলের সঙ্গে বিল্লালের ভাগনে আকাশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে আকাশের বিষয়ে দিদারুল কিছু বলার জন্য বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। এরপর দিদারুলসহ অন্যান্য আসামিরা রাত আটটার দিকে বিল্লালের ওপর হামলা করে মারধর শুরু করে এবং এক পর্যায়ে দিদারুলের নির্দেশে ছুরি দিয়ে তাঁর বুকে আঘাত করা হয়। এই হামলায় আকাশও আহত হয়। পরবর্তীতে বিল্লাল হাসপাতালে মারা যান।।
রাউজানে যুবদল নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ড: প্রকাশ্যে গুলি, দুই 'অস্ত্রধারী' ধৃত