Published : 10 Apr 2026, 09:09 AM
দৃষ্টি জুড়ানো সবুজ থোকায় ঝুলছে আঙুর—যেন বিদেশি কোনো বাগানে এসে পড়েছেন! গাজীপুরের এক কৃষক, মো. রোকনুজ্জামান (৬০), বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি ‘বাইকুনুর’ জাতের আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন তাঁর এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে। রোকনুজ্জামানের বাড়ি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগরা এলাকায়। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী। গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামে প্রায় পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে মাল্টা, ড্রাগন ফল ও প্যাশন ফলের চাষে তিনি আগে থেকেই সফল। এবার সেই অভিজ্ঞতার আলোয় এক বিঘা জমিতে শুরু করেন বিদেশি আঙুরের চাষ। বর্তমানে বাগানে প্রায় দুই শতাধিক গাছে দোদুল্যমান সবুজ আঙুরের থোকা। ফলন দেখে পাইকাররাও উৎসাহী হয়ে যোগাযোগ করছেন। বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, আর এক মাস পর ফলগুলো আকর্ষণীয় বেগুনি রঙে রূপান্তরিত হবে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠবে। মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই আঙুরের বেশ চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আঙুরবাগানের পরিচর্যাকারী ও ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই বিশেষ জাতের আঙুর গাছে ফেব্রুয়ারি মাসে ফুল আসে এবং মাত্র চার মাসের মধ্যেই ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। অন্যান্য ফসলের মতো, এই আঙুর চাষেও সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। বাগান দেখতে আসা স্থানীয় ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘ফেসবুকে এই বাগানের ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি।
কিন্তু নিজের চোখে এসে দেখলাম, গাজীপুরেও এত সুন্দর আঙুর চাষ সম্ভব। ফলন দেখে আমরা মুগ্ধ। ভাবছি, এখান থেকে চারা নিয়ে আমরাও চাষ শুরু করব।’ রোকনুজ্জামান জানান, ‘করোনা মহামারির সময় থেকে আমি পেশাগত কাজের পাশাপাশি কৃষির দিকে ঝুঁকে পড়ি। বিভিন্ন ফল চাষ করার পর এবার আঙুর নিয়ে কাজ শুরু করি। এক বিঘা জমি তৈরি, চারা রোপণ ও পরিচর্যা মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই মৌসুমে আনুমানিক দেড় থেকে দুই টন আঙুর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রথমবারেই প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ আশা করছি। এরপর প্রতি বছর অন্তত ২০ বছর ধরে এই গাছগুলো থেকে নিয়মিত ফলন পাওয়া যাবে।’ নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে রোকনুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি খাত তরুণদের জন্য অপার সম্ভাবনাময়। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে কৃষির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। বেকারত্ব দূর করতে আমি তরুণদের কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।’ গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বাগানটি পরিদর্শন করেছি।
রোকনুজ্জামান আগে থেকেই ড্রাগন ফল চাষে সফল ছিলেন। এবার তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন শুরু করেছেন। আমরা নিয়মিত তাঁর বাগানের খোঁজখবর রাখছি। আঙুর উৎপাদনের পরিমাণ ও বাজারজাতকরণের বিষয়টিও আমরা নজরে রাখব।’ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, আঙুর চাষের জন্য দোআঁশ ও লাল মাটি, জৈব সার সমৃদ্ধ কাঁকর মাটি অথবা পাহাড়ি অঞ্চলের পাললিক মাটি সবচেয়ে উপযোগী। এক্ষেত্রে জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে, যাতে পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সূর্যের আলো আসে এমন জায়গা আঙুর চাষের জন্য আদর্শ। এই ধরনের কৃষি উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। গাজীপুরের বাসিন্দা ও কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু নতুন ফসলের সম্ভাবনাই দেখাচ্ছে না, বরং দেশের কৃষিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। যথাযথ সহায়তা ও পরিকল্পনা থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে।।
দীর্ঘ কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হলেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, বাড়িতে ফেরেন