Published : 04 Jun 2026, 05:12 AM
এক বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি। বুধবার রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাত সাড়ে বারোটার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজের বাসভবনে পৌঁছান। এই মুক্তি সংবাদে রাত এগারোটা থেকে তাঁর বাড়ির সামনে আত্মীয়স্বজন ও কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আইভি যখন বাড়িতে ফেরেন, তখন সকলে স্বস্তি প্রকাশ করেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেলিনা হায়াৎ আইভি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি চাই, সকল নাগরিকের জন্য একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক।
জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। আশা করি, সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।’ উল্লেখ্য, পুলিশ তাঁকে ২০২৫ সালের ৯ই মে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে তাঁকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া তিন হত্যা মামলা এবং দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট বারোটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যদিও এই মামলাগুলোর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে তিনি একাধিকবার জামিন পেয়েছিলেন, নতুন নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। আইভীর মুক্তির সময় কারাফটকে তাঁর আইনজীবী এবং স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। সেলিনা হায়াৎ আইভি ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন। ২০১১ সালে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি সবসময় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস নির্মূলে সক্রিয় ছিলেন। আইভি বাড়িতে পৌঁছালে তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী এবং সমর্থকরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এই সময় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ মাসুদ, আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম, শাহীন মাহমুদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।।
লেবানন সংঘাত নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে উত্তপ্ত কথোপকথন: ট্রাম্প স্বীকার করলেন, বলেছিলেন 'উন্মাদ'