Published : 09 Jul 2026, 05:29 AM
ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালীর মাইন অপসারণের জন্য বাইরের কোনো পক্ষের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের বলেন, বাইরের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে কেবল আরও জটিল করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং তা পালনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে, তাই এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। বাঘাই আরও জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের অধীনে তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত ৬০ দিনের জন্য বিনা মূল্যে এই সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, কারিগরি ও সামরিক বাধা অপসারণ এবং ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক মাইন নিষ্ক্রিয়করণের প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে, ৩০ দিনের মধ্যে এই ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাঘাই মন্তব্য করেন, এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে এবং এটি অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিজেদের সক্ষমতার মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ সামরিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নয়, বরং রাজনৈতিক স্তরে পরিচালিত হয়। এই বক্তব্যটি আসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি সমুদ্রপথ নিরাপদ করতে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ‘অবাধ ও শর্তহীন’ চলাচল নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালিকে মাইনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্রান্স ও ওমান এই কাজে অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
ইরান বারবার জোর দিয়ে আসছে যে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাইন নিষ্ক্রিয়করণ এবং সামুদ্রিক অস্থায়ী ব্যবস্থার বিষয়গুলো ইসলামাবাদ স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং উপকূলীয় দেশ হিসেবে এগুলো ইরানের সমন্বয়েই সম্পন্ন হবে। এই প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চলাচলের পথ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকে এটি আঞ্চলিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। সমুদ্রপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এবং অস্থায়ী নৌ-চলাচল ব্যবস্থা তৈরি করতে গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।।
হরমুজ প্রণালিতে হামলা থামানোর জন্য ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিল আমেরিকা