Published : 28 Jun 2026, 09:15 AM
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরে বিলম্বের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েলের এই আক্রমণের কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটি কিছু ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে, যা হওয়ার কথা ছিল এখনই। অ্যাক্সিওসের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ইসরায়েলের আজকের হামলা সবকিছু কিছুটা এলোমেলো করে দিয়েছে এবং চুক্তি সই করার প্রক্রিয়াকে কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছে। এটি এখনই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এখন থেকে নতুন করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তাঁর উপদেষ্টারা যখন তাঁকে অবহিত করেন, তখন ট্রাম্প অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও হতবাক হয়ে যান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি তা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ঠিক যে মুহূর্তে আমাদের চুক্তি সই করার কথা ছিল, তার মাত্র এক ঘণ্টা আগে এই ঘটনাটি ঘটে গেল।’ তবে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে এই চুক্তি ইরানের জন্যও মঙ্গলজনক হবে। কারণ, এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখবে, পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে বাধ্য করবে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের (স্ন্যাপ ইন্সপেকশন) সুযোগ দেবে। এদিকে, ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি ইরানকে লেবাননে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী হামলার জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ না করার জন্য অনুরোধ জানাবেন। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার জবাবে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুমকি এসেছে, যা ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় ইসরায়েলের এই অপরাধ যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও গ্রহণযোগ্যতাহীন তা আবারও প্রমাণ করেছে। তারা এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে না।’ এই চুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রোববারের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি হতে পারে। ইরান জানিয়েছে, চুক্তির প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত এবং তা কয়েক দিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।।
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যান: যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তীব্র বিরোধিতা