Published : 18 Feb 2026, 03:08 PM
জুলাই মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ পেয়েছিলেন মো. আসাদুজ্জামান। এরপর নির্বাচনে অংশ নিয়ে হয়েছেন সংসদ সদস্য। প্রথমবার আইনপ্রণেতা হওয়ার সুতেই মন্ত্রী হলেন এই স্বনামধন্য আইনজীবী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধসে জয়লাভ করে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভায় আসাদুজ্জামানকে গুরুত্বপূর্ণ আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৩১শে জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী, শেখ মো. ইসরাইল হোসেন মাস্টার ও মোছা. রোকেয়া খাতুনের সুযোগ্য সন্তান। যশোর বোর্ডের অধীনে গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক এবং শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আইন বিষয়ে ১৯৯৩ সালে স্নাতক এবং ১৯৯৪ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আসাদুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্র জীবনেই। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন ১৯৯২ সালে জাসদ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাসদ থেকে সরে যান। ২০০৪ সালে আসাদুজ্জামান বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি। দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম, খুন ও গায়েবি মামলাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। এছাড়াও, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে আসাদুজ্জামান আইন পেশায় সক্রিয় হন। ১৯৯৫ সালে তিনি আইনজীবী নিজামুল হক নাসিমের (পরবর্তী সময়ে বিচারপতি) সাথে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের চেম্বারেও কাজ করেন।
১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী এবং ২০০৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। আরও পড়ুন: মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাব: আইনমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ই আগস্ট আসাদুজ্জামানকে দেশের সপ্তদশ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে গত ২৭শে ডিসেম্বর তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে ইস্তফা দেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমানের চেয়ে এক লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসাদুজ্জামানের স্ত্রী শিরীন সুলতানা শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় আসাদুজ্জামান গত অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা দেখিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫৬ টাকার স্থাবর এবং দুই কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৫৬৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।।
জ্বালানি দুর্নীতিতে সরকারের ঢিলেঢালা ভাব, ক্যাবের উপদেষ্টার কঠোর সমালোচনা