Published : 08 Aug 2026, 01:16 PM
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এবং তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয় ও তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি আজ শুক্রবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মামলাটি আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। এই প্রক্রিয়ায় সংগীতা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং আদালতকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন জানান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংগীতা তামিলনাড়ুর চেঙ্গালপট্টুর একটি আদালতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন দাখিল করেছিলেন। বিজয় ও সংগীতার দাম্পত্য বিরোধের শুনানি বেশ কয়েকবার মুলতবি হয়ে থাকে। গত ১৫ জুন সংগীতা যখন আবেদন প্রত্যাহার করতে চান, তখন আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। সেই শুনানিতেও তিনি ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত জানান। পরবর্তীকালে আদালত ৭ আগস্ট (আজ শুক্রবার) আরও শুনানির জন্য ধার্য করেছিল।
গত মাসে বিজয় বা সংগীতা কেউই আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পারিবারিক আদালতের শুনানি পিছিয়ে যায়। এর আগের বেশ কয়েকবারও তাঁরা দুজনেই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে জানান যে সশরীরে উপস্থিত হতে তাঁদের অসুবিধা হচ্ছিল। সংগীতা বিজয়ের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন এবং রাজ্যের চেঙ্গালপট্টুর পারিবারিক আদালতে এই আবেদন করেন। আবেদনে তিনি তাঁদের মধ্যে থাকা অমীমাংসিত মতপার্থক্যকেই বিচ্ছেদের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি স্থায়ী খোরপোশ এবং চেন্নাইয়ের নীলঙ্করাইয়ে যৌথভাবে বসবাসের অনুমতি চেয়েছিলেন। বিজয় ও সংগীতার সম্পর্ক প্রায় তিন দশক পুরনো। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট চেন্নাইয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রীতিতে তাঁদের আন্তধর্মীয় বিবাহ সম্পন্ন হয়।
২০০০ সালের ২৬ আগস্ট তাঁদের প্রথম সন্তান এবং ২০০৫ সালে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিজয় সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনসাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সংগীতার অনুপস্থিতির পর ২০২৩ সালে তাঁদের দাম্পত্য বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যদিও সেই সময় দুজনেই বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ২০২৫ সালে টিভিকে আয়োজিত দলের দ্বিতীয় রাজ্য সম্মেলনসহ প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চে সংগীতার অনুপস্থিতি আবারও আলোচনার জন্ম দেয়। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (ডিএমকে) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগামের (এআইএডিএমকে)-এর মতো বৃহৎ দলগুলোর কয়েক দশকের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বিজয়ের দল ক্ষমতায় আসে। দলটি পরবর্তীকালে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই), কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট), ভিথুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল)-এর সমর্থনে সরকার গঠন করে। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে তামিলনাড়ুতে প্রথম জোট সরকার গঠিত হয়।।
পশ্চিমবঙ্গে মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন: শুভেন্দুর নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো