Published : 23 Aug 2026, 05:16 AM
দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহের সম্মিলিত শক্তিকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’র প্রথম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৩৩ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়, যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করবে। শনিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়। সকাল ১০টায় দেশের শতাধিক বেসরকারি গ্রন্থাগারের প্রতিনিধিরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়ানোর মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা করেন। প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। মফিদুল হক তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, পাঠাগারগুলো আজ কেবল বই পড়ার স্থান নয়; এগুলি ছোট ছোট সামাজিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক যোগাযোগের প্রসার ঘটিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থাগারগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আফসানা বেগম আরও বলেন, দেশের গ্রন্থাগারগুলোকে শুধুমাত্র পাঠের স্থান হিসেবে না দেখে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজকে জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই অনুষ্ঠানে শতবর্ষী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকার আলী, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, পুরান ঢাকার গ্রন্থবিতানের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান, সীমান্ত গ্রন্থাগারের সদস্যসচিব মানজার চৌধুরী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রন্থাগার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, প্রতিকূলতার মধ্যেও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলো পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চার প্রসারে নিরলস কাজ করে চলেছে। তবে সরকারি সহায়তা, অর্থসংকট, পর্যাপ্ত বই এবং অবকাঠামোর অভাবের মতো নানা চ্যালেঞ্জ তাদের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই সমস্যা সমাধানে বেসরকারি গ্রন্থাগারের জন্য সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধিবর্গ জোর দেন যে, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’ এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে। সংগঠনের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা, সরকারি সহযোগিতা আদায় এবং গ্রন্থাগারের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনার ভিত্তিতে মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে সভাপতি এবং মো. জহির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের নেতৃত্বে তিন বছর মেয়াদি ৩৩ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সংগঠনের গঠনতন্ত্রও অনুমোদিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা।।
হামবুর্গে বাংলার উৎসব: বইয়ের সুবাসে মুখরিত প্রবাসের মাটি, বর্ণিল কার্নিভালে বাঙালি সংস্কৃতি