Published : 27 Feb 2026, 01:07 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি অটোরিকশা চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক কয়েকজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে ভূঁইয়া রাস্তা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অবরোধ করে রাখে, যার ফলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে ভূঁইয়া রাস্তা এলাকায় একটি অটোরিকশা চুরি হয়। স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিরাও একই এলাকার বাসিন্দা। এরপর তারা আটক ব্যক্তিদের মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেয়। তারা প্রথমে চুরি যাওয়া অটোরিকশাটির সন্ধান জানতে চায়।
এ নিয়ে পুলিশের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে উত্তেজনার পর রাত দশটার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, আর পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের মারধর করা হয়েছিল, তাই তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। পুলিশ প্রথমে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল জনতা হামলা চালায়। এই হামলায় পুলিশ সদস্য মোতালেব হোসেন ও শওকত হোসেন আহত হন। তাদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া জানান, ‘আটক ব্যক্তিদের গাড়িতে তোলার সময় উচ্ছৃঙ্খল জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এই ঘটনায় মামলা করা হবে এবং আটক চারজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
’ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করছেন। তাদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে খারাপ আচরণ করেছে এবং কয়েকজনকে মারধর করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল আলম ও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রথমে অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে পুলিশের সাথে তর্ক হয় এবং এক পর্যায়ে গ্রামের লোকজন ওপর পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়।’ ফারুক হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা চুরি হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার ও সঠিক তদন্ত চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমাদের কথা শোনেনি। এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং আমাদের এলাকার অন্তত ১৩ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে পুলিশ।’ এই ঘটনার জের ধরে গতকাল রাত দশটার দিকে স্থানীয়রা লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ করে রাখে। এতে সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে স্থানীয়রা সড়ক ছেড়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।।
পল্লবীতে নৃশংস হামলা: বৃদ্ধা নিহত, এজাহার নিয়ে পুলিশের গড়িমসি!