Published : 11 Apr 2026, 09:08 AM
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে যোগদানের জন্য ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ আবেদন করেছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনবল সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলস্বরূপ এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ২ হাজার ৭০৩টি পদের জন্য এই প্রতিযোগিতায় গড়ে প্রতি পদের বিপরীতে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশের উপর মানুষের আস্থার অভাব দেখা গিয়েছিল। নতুন সরকার সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার পর পুলিশ সদর দপ্তর জনবল বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণদের নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসে বড় ধরনের নিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ৯টি পদে ১৯৭ জন নেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান জানান, কনস্টেবল পদে আবেদনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং ১ লাখ ২৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো শূন্য পদ পূরণ করা এবং পুলিশের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জনবল সংকট পুলিশের এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের বিভিন্ন স্তরে জনবলসংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি এক বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের জন্য তাগিদ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে কার্যকর সেবা প্রদানের জন্য পুলিশের সব স্তরেই জনবলের অভাব রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আপাতত ২ হাজার ৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও, গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। স্নাতক পাশ এবং কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন তরুণদের সার্জেন্ট পদে আবেদনের সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
জনপ্রিয় অনেক গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি আর্থিকভাবে লাভজনক নয়, বলছে গবেষণা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতি ও তদবির রোধে কঠোর বার্তা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন অথবা রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে আবেদনকারীর যোগ্যতা বাতিল করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যে জালিয়াতি অথবা অসত্য কিছু পাওয়া যায়, তবে তার আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ এখন মাঠ পর্যায়ের শারীরিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ, পদ সংখ্যা ৫১০।।
পল্লবীতে নৃশংস হামলা: বৃদ্ধা নিহত, এজাহার নিয়ে পুলিশের গড়িমসি!