Published : 12 Aug 2026, 05:16 PM
বগুড়ার শেরপুরে এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। একটি পরিচিত ‘পাখি কলোনি’ এলাকায় নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিযায়ী শামুকখোলসহ অসংখ্য পাখির বাসা, ডিম এবং ছানা ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বন বিভাগ মামলা রুজু করেছে। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত আজাহার আলী নামের এক ব্যক্তিকে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই এজাহারের বিষয়টি তদন্ত করছেন শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন।
তিনি জানান, গাছ কেটে নেওয়ার ফলে পাখির বাচ্চা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনা ঘটেছে। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬-এর আইন ৪১-এর (৪) ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বন বিভাগের নজরে আসে এবং বগুড়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করে জানান, রামনগর গ্রামের অনেক গাছেই পাখির বাসা বিদ্যমান এবং এটি এক প্রকৃত ‘পাখি কলোনি’। শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল এই গাছগুলো ছিল।
পুলিশ ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত আজাহার আলী তাঁর জমিতে থাকা জলপাই, পিতরাজসহ সাতটি মূল্যবান গাছ কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন এবং পরবর্তীতে তা কেটে নিয়ে যান। অভিযোগ ছিল, গাছ কাটার সময় সেখানে থাকা পরিযায়ী শামুকখোলসহ পাখির বাসা ভেঙে যায়, যার ফলে অনেক ছানা মারা যায় এবং ডিম নষ্ট হয়। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রথম আলো অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় বন বিভাগের তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন পারভেজ নিশ্চিত করেন যে রামনগর গ্রামের গাছগুলো শুধু কাঠ ছিল না, এগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে গ্রামটি স্থানীয়ভাবে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত এবং পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্যমতে, এই এলাকায় প্রায় ৫০০টি গাছে পাখির বাসা রয়েছে, যেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পাখি ও ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির পাখি বসবাস করে।।