Published : 11 Aug 2026, 05:16 PM
নিজের সন্তানের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বাবা আলী আকবর ৫৪ বছর বয়সে এসে এসএসসি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করলেন। রাজশাহী অঞ্চলের নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি উচ্চবিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স ট্রেড থেকে তিনি জিপিএ ৪.৩৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এই অর্জন শুধু তাঁর জন্য নয়, পরিবার এবং প্রতিবেশীদের কাছেও এক নতুন অনুপ্রেরণা। পেশাগত জীবনে বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী আলী আকবরের জীবন সংগ্রামের গল্প আরও গভীর। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়; সঠিক ইচ্ছাশক্তি, মনোবল এবং অধ্যবসায় যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তিনি এই সত্যকে নিজের জীবনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, ছয় ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে আকবর দ্বিতীয়। সীমিত আয়ের মধ্যে সংসার চালানো কঠিন হলেও তিনি গ্রামের একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা শুরু করেন।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ১৯৮৩ সালে পড়াশোনা বন্ধ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে পরিবারকে সহযোগিতা করতেন। ১৯৯০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম之后, আলী আকবর সপরিবারে রাজশাহীতে চলে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। সন্তানদের শিক্ষার খরচ জোগানো কঠিন হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। ২০১৫ সালে তিনি মেয়েকে নার্সিং পেশায় প্রবেশ করান এবং ছেলেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করান। ২০১৯ সালে ছেলে এমবিবিএস পরীক্ষায় সফল হন এবং ৪২তম বিসিএসে চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। বাবা আলী আকবরের মতে, যখন তার সন্তানরা কর্মজীবনে প্রবেশ করে, তখন তিনি আবার পড়াশোনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।
স্ত্রী ও সন্তানদের আলোচনার মাধ্যমে তিনি অনুপ্রেরণা পান। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ মোবাইল গেমে সময় নষ্ট করে। তিনি চেয়েছিলেন তাদের বোঝাতে যে শুধু ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল থাকলেই সাফল্য আসে। তিনি তাঁর ছেলে এবং মেয়েদের উৎসাহিত করতে মোবাইল ব্যবহার করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি আরও জানান, পারিবারিক আলোচনায় পড়ালেখা শুরুর কথা বলতেন এবং পরিবার তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করত। বাবা এসএসসি পাস করায় পরিবারের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা চান তিনি আরও জ্ঞান অর্জন করুন।।
রাজনীতির পথে পথ হারানো জাহিদুল, অবশেষে দলীয় কার্যালয়ে খুঁজে নিলেন আশ্রয়