Published : 09 Jul 2026, 08:54 AM
কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া জাহিদুল ইসলাম (৩৬) এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন। গত দেড় বছরে তিনি বহুবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। পরিবার এবং স্বজনদের কাছ থেকে তিনি সমর্থন হারিয়েছেন; স্ত্রী-সন্তান বাবার বাড়িতে চলে গেছেন এবং মা-বাবাও তাঁকে আর আশ্রয় দেন না। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি অবশেষে দলের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম ওরফে অমি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলীর পুত্র এবং দিনমজুর পেশার মানুষ। তিনি আজ বুধবার সকালে নিজের থাকার জন্য উপজেলার বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কার্যালয়ে উঠেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদুল কিশোর বয়স থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত সতেরো বছরে তিনি বহুবার আইনি জটিলতার সম্মুখীন হলেও রাজনীতি থেকে সরে আসেননি। বিরক্ত হয়ে স্বজনরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং পরিবারকে ছেড়ে চলে যান।
তিনি রাতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে থাকতেন, কিন্তু কেউ তাঁকে আর আশ্রয় দিতে চান না। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জাহিদুল ইসলাম বিএনপির কার্যালয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। দলের এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে একটি কাঠের চৌকি কিনে দিয়েছেন। বাঁশিলা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির কার্যালয়ের এক কোণে তিনি বিছানা পেতেছেন। এক কক্ষের দলীয় কার্যালয়ে বসে আজ দুপুরে জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আমার মস্তিষ্কে গেঁথে আছে। রাজনীতি বাদ দিতে বললে আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। তাই আমি আমার বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মন জয় করতে পারিনি। আমি সব হারায়। এখন আমি কাজ করি, পেটের তাগিদে চলি। বাকি সময় অফিসে কাটাই।
যদি নেতারা বাধা না দেন, তাহলে এখানেই বাকি জীবন কাটাতে চাই। আর যদি কোনো নেতার দয়া থাকে, তাহলে তার কাছে একটি ঘর চাইব।’ এই প্রসঙ্গে মাধনগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি রায়হান মিনা বলেন, ‘জাহিদুল ভাই একজন চমৎকার কণ্ঠশিল্পী। তাঁর অনেক নির্বাচনী গান রয়েছে। আমরা তাঁর জন্য কিছু করতে পারিনি, তাই আজ তিনি দলীয় অফিসে উঠেছেন।’ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, ‘জাহিদুল দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। তাঁর থাকার জায়গা নেই। আপাতত অফিসে থাকুক। জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’।
স্বপ্ন পূরণের পথে বাবা: ছেলে ডাক্তার, মেয়ে নার্স—অসুবিধার মাঝেও এসএসসি পাসের গল্প